প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে ১৩ বছর বয়সী কিশোরী ছামিরুন আক্তার হত্যাকাণ্ডের বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। নির্মম এই হত্যার ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে আজমিরীগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি শুরু হয়। কলেজের আঙিনা থেকে শুরু হওয়া মানববন্ধনে অংশ নেন শত শত শিক্ষার্থী। তারা হাতে ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পুরো সময়জুড়ে “ছামিরুন হত্যার বিচার চাই” এবং “অপরাধীর ফাঁসি চাই” স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
শিক্ষার্থীরা বলেন, একটি ১৩ বছর বয়সী কিশোরীর এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্যই বেদনাদায়ক ও উদ্বেগজনক ঘটনা। তারা বলেন, এই ধরনের অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে সমাজে ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তারা আরও বলেন, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা না গেলে জনগণের মধ্যে বিচারহীনতার ধারণা তৈরি হবে। তাই প্রশাসনের প্রতি তারা দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
এর আগে গত ৫ এপ্রিল একই ঘটনার প্রতিবাদে উপজেলার বদলপুর ইউনিয়নের পিটুয়ারকান্দি গ্রামে স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন করেন। ওই কর্মসূচিতেও এলাকাবাসী হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছিলেন। ধারাবাহিক এই আন্দোলন এখন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আরও বিস্তৃত রূপ নিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৩০ মার্চ (সোমবার) রাতে বদলপুর ইউনিয়নের পিটুয়ারকান্দি গ্রাম থেকে ১৩ বছর বয়সী ছামিরুন আক্তার নিখোঁজ হন। পরদিন ১ এপ্রিল তার পরিবারের পক্ষ থেকে আজমিরীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। একইদিন দুপুরে পিটুয়ারকান্দি গ্রাম সংলগ্ন কালনী নদী থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এই ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে ২ এপ্রিল ময়নাতদন্ত শেষে ছামিরুনের মরদেহ দাফন করা হয়। কিন্তু ঘটনার পরও এখন পর্যন্ত মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ আরও বাড়ছে।
আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আকবার হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনাটির তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পর কয়েকদিন পার হলেও এখনো প্রকৃত অপরাধীরা ধরা না পড়ায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়ে গেছে।
মানবাধিকার কর্মী ও স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের নৃশংস ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। একই সঙ্গে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা কঠিন হবে।
শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন এখন শুধু একটি প্রতিবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি শক্তিশালী দাবিতে পরিণত হয়েছে। তাদের দাবি, ছামিরুন হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে সমাজে একটি শক্ত বার্তা দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।
স্থানীয়দের মতে, শিশু ছামিরুনের নির্মম হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, পুরো এলাকার জন্যই এক গভীর শোক ও ট্রমার ঘটনা। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারই পারে পরিবার ও এলাকাবাসীর কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে।
সবশেষে বলা যায়, আজমিরীগঞ্জের এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে এই ক্ষোভ প্রশমিত করতে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে।


