গ্যাস সংকটে স্বস্তি: সিলেটে ৯ নতুন কূপের উদ্যোগ

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

বিশ্বজুড়ে যখন জ্বালানি সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে এবং আমদানি নির্ভরতা বাড়ার কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতেও চাপ তৈরি হয়েছে, তখন দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে একটি আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড উৎপাদন বাড়াতে নতুন করে ৯টি গ্যাস কূপ থেকে উত্তোলনের উদ্যোগ নিয়েছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে পাঁচটি কূপ খনন সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি চারটির কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে পুরোনো কূপগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে আরও ৮টি কূপে ওয়ার্কওভার কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

জ্বালানি খাতে এই অগ্রগতির তথ্য নিশ্চিত করে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. ফারুক হোসেন জানান, দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিদিন বর্তমানে প্রায় ১৪২ থেকে ১৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। নতুন কূপগুলো উৎপাদনে এলে এই সরবরাহ আরও বাড়বে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা এবং গৃহস্থালি ব্যবহারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সিলেট গ্যাস ফিল্ডসের অধীনে থাকা হরিপুর, কৈলাশটিলা, বিয়ানীবাজার ও রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্র দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অন্যতম প্রধান গ্যাস সরবরাহকারী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এই চারটি গ্যাসক্ষেত্রে মোট ৩৪টি কূপ রয়েছে, যার মধ্যে বর্তমানে ১৭টি কূপ সক্রিয়ভাবে গ্যাস উৎপাদন করছে। এসব কূপ থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে বাকি কূপগুলো পুরোনো হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে, যা পুনরায় চালু করার জন্য ওয়ার্কওভার কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

গ্যাস উৎপাদনের পাশাপাশি কনডেনসেট উৎপাদনও সিলেট অঞ্চলের একটি বড় সম্পদ। বর্তমানে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস নিজস্বভাবে প্রতিদিন প্রায় ৭৫০ ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদন করছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানি শেভরন ও তাল্লোর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রতিদিন আরও ৬ হাজার থেকে ৬ হাজার ৫০০ ব্যারেল কনডেনসেট পাওয়া যাচ্ছে। এই কনডেনসেট দেশের বিভিন্ন রিফাইনারিতে সরবরাহ করা হয়, যা থেকে পেট্রল, অকটেন, ডিজেল ও কেরোসিন উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।

বিশেষ করে রশিদপুর রিফাইনারি এই কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাতকরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এখানে প্রতিদিন ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ ব্যারেল পেট্রল, ৬০০ থেকে ৭০০ ব্যারেল অকটেন, ১৫০ থেকে ২৫০ ব্যারেল ডিজেল এবং ১০০ থেকে ১৫০ ব্যারেল কেরোসিন উৎপাদিত হচ্ছে। উৎপাদিত এসব জ্বালানি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের বিপণন কোম্পানি—পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার মাধ্যমে সারা দেশে সরবরাহ করা হয়, যা দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সিলেট গ্যাস ফিল্ড থেকে উৎপাদিত জ্বালানি দেশের মোট পেট্রলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ চাহিদা পূরণ করছে। একই সঙ্গে কেরোসিন, অকটেন এবং ডিজেলের একটি অংশও এখান থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে নতুন কূপ খনন এবং পুরোনো কূপ পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ দেশের জ্বালানি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় জনগণের মধ্যেও এই উদ্যোগ নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত মানুষজন মনে করছেন, নতুন কূপ খননের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে। অনেকেই আশা করছেন, এর ফলে গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি কমে যাবে এবং শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকিও কমবে।

তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ সফল করতে হলে শুধু কূপ খননই যথেষ্ট নয়; বরং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ জনবল এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরিবেশগত ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে, যাতে প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এর সুফল ভোগ করতে পারে।

এদিকে একটি তেল কূপ খননের জন্য ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে, যা সিলেট অঞ্চলে জ্বালানি অনুসন্ধানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। যদি এই প্রকল্প সফল হয়, তবে গ্যাসের পাশাপাশি তেল উৎপাদনের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে সিলেট গ্যাস ফিল্ডসের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেশীয় উৎস থেকে উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে লক্ষ্য সরকার নির্ধারণ করেছে, তার বাস্তবায়নে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আগামী দিনে নতুন কূপগুলো থেকে পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরু হলে দেশের জ্বালানি খাতে যে চাপ রয়েছে তা কিছুটা হলেও কমবে—এমন প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট সবাই। এখন দেখার বিষয়, পরিকল্পনাগুলো কত দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায় এবং তার সুফল দেশের প্রতিটি খাতে কতটা কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

সুনামগঞ্জে পুকুরে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে হামে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৬

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

লোডশেডিংয়ে ভোগান্তিতে সিলেটের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

টাওয়ার হ্যামলেটস নির্বাচনে সিলেটি প্রার্থীদের লড়াই

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বড়লেখায় নতুন ইউএনও মাহবুব আলমের যোগদান

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

সুনামগঞ্জে পুকুরে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে হামে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৬

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

লোডশেডিংয়ে ভোগান্তিতে সিলেটের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

টাওয়ার হ্যামলেটস নির্বাচনে সিলেটি প্রার্থীদের লড়াই

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বড়লেখায় নতুন ইউএনও মাহবুব আলমের যোগদান

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

পিতার পথ ধরে সংরক্ষিত নারী আসনে জহরতের অভিষেক

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

১৭ বছর পর দেশে ফিরে নির্বাচনের ঘোষণা জসিমের

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ