রাজনৈতিক পরিবর্তনের পালাবদলে যখন অনেকেই অবস্থান বদল করেছেন, তখন একজন মানুষ তাঁর নীতিতে অটল থেকেছেন। তিনি কোথাও পালিয়ে যাননি, রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াবেন বলে কাউকে মুচলেকাও দেননি। বুলেটপ্রুফ গাড়ির প্রাচীরে নিজেকে নিরাপদ রাখার প্রয়োজন তাঁকে অনুভব করতে হয়নি, আলিশান জীবনের মোহ তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি।
তিনি কখনো পারিবারিক উত্তরাধিকার হিসেবে নেতৃত্বের মঞ্চে আরোহণ করেননি। যখন ক্ষমতার কেন্দ্রে অবস্থানকারীগণ দেশে হত্যা, ভয়, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের এক অদৃশ্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তখনও এই মানুষটি অটল ছিলেন এই মাটির উপর, এই দেশের মানুষের পাশে। সত্য ও ন্যায়ের পথে তাঁর আস্থা ছিল আকাশচুম্বী।
প্রাণহানির ঝুঁকি ছিল নিত্যসঙ্গী, কিন্তু সেই ভয়কে অতিক্রম করার সাহস ছিল আরও বেশি বাস্তব। কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ তাঁকে ভাঙতে পারেনি, রাষ্ট্রযন্ত্রের হুমকি তাঁকে দমাতে পারেনি, মিথ্যা মামলা ও অভিযোগ তাঁকে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।
অতীতের সেই সংকটময় সময়েও তিনি ছিলেন, বর্তমানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়ও তিনি আছেন, এবং ভবিষ্যতের বাংলাদেশের বুকেই তিনি থাকবেন—এটাই তাঁর অনুসারীদের দৃঢ় বিশ্বাস। এই অটল দৃঢ়তা, এই নিঃস্বার্থ ত্যাগ, এই ভয়হীন আত্মবিশ্বাস একটি জাতির জন্য অমূল্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
এই নেতার জীবনচরিত প্রত্যয়িত করে যে, সততা ও নিষ্ঠার সাথে জনগণের পাশে দাঁড়ানো নেতৃত্বই ইতিহাসে স্থায়ী ছাপ রাখে। তাঁর এই আদর্শিক অবস্থান রাজনীতির ময়দানে এক আলোকবর্তিকার মতো প্রজ্জ্বলিত থাকবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পথ দেখাতে থাকবে।


