প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের দেশত্যাগে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। চলমান মানিলন্ডারিং ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আদালতে উপস্থাপিত আবেদনে বলা হয়, মোয়াজ্জেম হোসেন তার দায়িত্ব পালনকালে তদবির বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি এবং চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, তিনি শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন এবং সেই অর্থের একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করেছেন।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে স্থানান্তর করেছেন এবং সেখানে সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত অনুসন্ধান চলছে। তদন্তের এই পর্যায়ে তিনি যদি বিদেশে চলে যান, তাহলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ কারণে সিআইডির উপপরিদর্শক মো. আব্দুল হান্নান আদালতে আবেদন করে বলেন, তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত মোয়াজ্জেম হোসেনের বিদেশ গমন বন্ধ রাখা অত্যন্ত জরুরি। আদালত আবেদনটি বিবেচনায় নিয়ে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
জানা গেছে, মোয়াজ্জেম হোসেন সম্প্রতি চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন। তিনি স্পাইনাল কর্ডের চিকিৎসার কথা উল্লেখ করে বিদেশযাত্রার আবেদন করেন। তবে চলমান তদন্তের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আদালত তার এই আবেদন মঞ্জুর করেননি।
উল্লেখ্য, এটি প্রথমবার নয় যে তার ওপর বিদেশযাত্রার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো। এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২৪ মে একই আদালত তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক এবং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। ফলে চলমান তদন্তের গুরুত্ব এবং অভিযোগের ব্যাপকতা বিবেচনায় আদালত পূর্বের অবস্থান বহাল রেখেছে বলেই মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতি ও অর্থপাচার সংক্রান্ত অভিযোগে উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত জোরদার হওয়ায় এই ধরনের পদক্ষেপ বাড়ছে। এতে করে একটি বার্তা যাচ্ছে যে, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় কাউকেই আইনের ঊর্ধ্বে রাখা হচ্ছে না।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তদন্ত চলাকালীন সময়ে বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া একটি স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া। এতে করে অভিযুক্ত ব্যক্তি তদন্ত এড়ানোর সুযোগ পান না এবং তদন্তকারী সংস্থাও নিরপেক্ষভাবে তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখন তদন্তাধীন। আদালতের এই নির্দেশনার ফলে তার বিদেশযাত্রা আপাতত বন্ধ থাকছে। এখন তদন্তের অগ্রগতি এবং প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


