প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা, প্রত্যাহার কমিশনার

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ও অতিরিক্ত সচিব মো. ইউসুফ আলীকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে অবমুক্ত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে করমর্দনের সময় তাঁকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করার অভিযোগ ঘিরে ঘটনাটি আলোচনায় এসেছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা আদেশে তাঁকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করা হয়। আদেশ জারির পর ওই রাতেই তিনি রাজশাহী ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। তবে প্রত্যাহারের আদেশে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইউসুফ আলীকে রাজশাহী ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাঁকে কর্মস্থল ত্যাগ করতে বলা হয় এবং রাত ১১টার দিকে তিনি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন। এর আগে সন্ধ্যায় তাঁকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। মাত্র দুই মাস আগে রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে এত দ্রুত সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রশাসনিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সূত্রগুলোর দাবি, প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফরের সময় অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও শিষ্টাচার অনুসরণের ক্ষেত্রে ব্যত্যয় ঘটেছে বলে অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই ইউসুফ আলীর বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা না থাকায় প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক কারণ নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। ফলে একদিকে ভিডিওতে দৃশ্যমান ঘটনাটি, অন্যদিকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ—দুটি বিষয় পৃথকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

মঙ্গলবার রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কর্মকর্তাদের করমর্দনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, সফর শেষে বিমানবন্দরে উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাত মেলানোর সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দন করেন বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলী। এরপর তিনি প্রধানমন্ত্রীর দিকে ঝুঁকে আরও কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন। দৃশ্যটি দেখে তাঁকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করছেন বলে আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রীকে তাঁকে সরিয়ে দিতে দেখা গেছে বলে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও অভ্যর্থনার ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রটোকল কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সে বিষয়টিও সামনে আসে। তবে কোনো ভিডিওর দৃশ্য দেখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। একইভাবে, একটি ঘটনার সঙ্গে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সময়গত সম্পর্ক থাকলেও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ছাড়া সেটিকে একমাত্র কারণ হিসেবে চূড়ান্তভাবে উপস্থাপন করাও সমীচীন নয়। ইউসুফ আলীর প্রত্যাহারের আদেশে সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না থাকায় এ বিষয়ে সতর্ক ও তথ্যনির্ভর অবস্থান জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঙ্গলবার সরকারি সফরে রাজশাহী যান। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি দেশের কয়েকটি এলাকায় সফর করেন। দিনের কর্মসূচির মধ্যে রাজশাহীতে জনসভায় বক্তব্য দেওয়া এবং একটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শনও ছিল। সফর ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন ছিল। রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা, যাতায়াত, অভ্যর্থনা এবং বিদায়সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হয়।

মঙ্গলবার বেলা ২টা ৫৫ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজ রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দর থেকে তিনি নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে যান। পরে মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। জনসভা শেষে তিনি রাজশাহীর একটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। দিনের কর্মসূচি শেষ করে আবার শাহ মখদুম বিমানবন্দরে ফিরে যান। সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটের দিকে তাঁর উড়োজাহাজ রাজশাহী ছেড়ে যায় বলে প্রাপ্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

বিমানবন্দরে বিদায় জানানোর সময় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর করমর্দনের ঘটনাই পরে আলোচনার কেন্দ্রে আসে। আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা বা বিদায়পর্বে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আচরণ, দায়িত্ববোধ এবং প্রটোকল অনুসরণ প্রশাসনিক শৃঙ্খলার অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী বা অন্য কোনো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তা ও চলাচলের ক্ষেত্রে নির্ধারিত দূরত্ব এবং ব্যবস্থাপনা বজায় রাখা প্রয়োজন। তবে কোনো কর্মকর্তার আচরণে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ।

ইউসুফ আলী গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান। এর আগে তিনি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সদস্য-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার এই কর্মকর্তা দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নিয়ে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে তাঁকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত তাই বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে।

বিভাগীয় কমিশনারের পদটি মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর একটি। একটি বিভাগের বিভিন্ন জেলার প্রশাসনিক কার্যক্রমের সমন্বয়, সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সহযোগিতা, উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি তদারকি এবং বিভাগীয় পর্যায়ে বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে এ পদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে বিভাগীয় কমিশনারের পদে পরিবর্তন হলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও জরুরি হয়ে পড়ে।

প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী, ইউসুফ আলীকে সরিয়ে দেওয়ার পর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. রেজাউল আলম সরকারকে ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বিভাগীয় প্রশাসনের নিয়মিত কার্যক্রম চালু রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে দায়িত্ব হস্তান্তর, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কার্যক্রম এবং প্রত্যাহারের বিষয়ে পরবর্তী কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এলে ঘটনাটির প্রশাসনিক দিক আরও স্পষ্ট হবে।

এদিকে প্রত্যাহারের কারণ সম্পর্কে প্রশাসনের বিভিন্ন সূত্রে প্রটোকল ভঙ্গের অভিযোগের কথা বলা হলেও আনুষ্ঠানিক আদেশে নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা না থাকায় বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ সীমিত। এ ধরনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আদেশের ভাষা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তাদের জন্য রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচার ও নিরাপত্তাবিধি অনুসরণের প্রয়োজনীয়তাও এ ঘটনা নতুন করে সামনে এনেছে।

রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনারকে দ্রুত প্রত্যাহারের ঘটনা এখন মূলত দুটি প্রশ্ন সামনে এনেছে—প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিমানবন্দরের সাক্ষাতের সময় ঠিক কী ঘটেছিল এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ভিত্তি কী। ভিডিও ঘিরে তৈরি হওয়া আলোচনা এবং প্রত্যাহারের সময়ের নৈকট্য একটি সম্ভাব্য যোগসূত্রের ইঙ্গিত দিলেও চূড়ান্ত ব্যাখ্যার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। নিরপেক্ষভাবে ঘটনাটি মূল্যায়ন করতে হলে অভিযোগ, দৃশ্যমান তথ্য এবং সরকারি সিদ্ধান্তের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখতে হবে।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

আজমিরীগঞ্জে নিখোঁজের এক দিন পর নদীতে মিলল গৃহবধূর মরদেহ

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিক্ষোভ ঠেকাতে ফ্রান্সে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ২৪ অক্টোবর সিলেট মহানগর যুবদলের সভা

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিজয়া দশমীতে সিলেটে বিদায়ের সুর, বিসর্জনের প্রস্তুতি

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

২৯ অক্টোবর এইচএসসি ফল প্রকাশের সম্ভাবনা বেশি

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

আজমিরীগঞ্জে নিখোঁজের এক দিন পর নদীতে মিলল গৃহবধূর মরদেহ

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিক্ষোভ ঠেকাতে ফ্রান্সে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ২৪ অক্টোবর সিলেট মহানগর যুবদলের সভা

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিজয়া দশমীতে সিলেটে বিদায়ের সুর, বিসর্জনের প্রস্তুতি

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

২৯ অক্টোবর এইচএসসি ফল প্রকাশের সম্ভাবনা বেশি

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

মৌলভীবাজার হাসপাতালে সংকট, বাড়ছে রোগীর দুর্ভোগ

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে নতুন অধ্যাদেশ জারি

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ইশরাকের পাশে এনসিপি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ